রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এর আগে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানা থেকে শত শত শ্রমিক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর থেকে বোর্ডঘর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আন্দোলনের কারণে আশপাশের অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে তাদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমান বেতনে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে পুলিশ।